নদিয়া: রাতের অন্ধকারে দিশাহীন রোগীর পরিবার! হাসপাতাল চত্বরে মিলছে না ওষুধ। দিনের দিকে ব্যবসা হলেও রাতে ওষুধ বিক্রির না হওয়ায় বন্ধ পরিষেবা। হাসপাতাল সংলগ্ন ওষধের দোকানদারদের মানবিক হতে ডাক বিধায়ক- চেয়ারম্যানের। দিনের শান্তিপুর এবং রাতের মধ্যে যে এতটা ব্যবধান তা বোধ হয় উপলব্ধি করেন তারাই যাদের পরিবারে মধ্যরাতে অসুস্থতার কারণে যেতে হয় শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে (Santipur State General Hospital)। অভিযোগকারী এবং সামাজিক মাধ্যম থেকে জানা যায় হাসপাতালের ভেতর ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান খোলা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জীবনদায়ী ওষুধ ইনজেকশন মিলছে না সেখানে।
রোগীর পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে দু’ধারের রাস্তায় ৮-১০ টি ওষধের দোকান সারাদিন মুনাফার ব্যবসায় পরিষেবা মেলে না রাতে। আর অভিযোগ কখনও জীবন বাঁচাতে রোগীর পরিবার থেকে ফোন করলে উত্তর মেলেনা। দোকানের গ্রিলের সাটারে শব্দ করে ডাকলেও না। গতকাল রাতের আগের রাত অর্থাৎ ৩ জানুয়ারি শান্তিপুর পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দিলীপ বল তার ৬ মাসের নাতনীর অসহ্য পেটের যন্ত্রণা, নিয়ে রাত তিনটে নাগাদ ভর্তি করান শান্তি পুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সেক্ষেত্রে বাচ্চার মা পায়েল বল ছিল বাচ্চার সঙ্গে। সে সময় কর্তব্যে থাকা চিকিৎসক তৎপরতার সঙ্গে হাসপাতালে থাকা ওষুধ দিলেও একটি ইনজেকশন এবং দুটি ওষুধ লিখে দেন যা মেলে না হাসপাতালের মধ্যে থাকা ন্যায্যমূল্য ওষুধের দোকানে। এরপর হাসপাতালের দুপাশে দোকানগুলিতে ফোন করা হয়। এমনকি পাঁচিল টপকে বাড়ির মধ্যে ঢুকে তারশ্বরে শিশুর প্রাণ বাঁচানোর ওষুধ নিতে চিৎকার করলেও মেলেনা সহযোগিতা। বাধ্য হয়েই পরিজনদের পরিচিত চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন লোককে ফোন করেও সমাধান সূত্র না পাওয়ায় মধ্যরাতে পৌঁছে যান কৃষ্ণনগরে (Krishnanagar)। সেখান থেকে ওষুধ নিয়ে এসে ছোট্ট এক রত্তির বাঁচে প্রাণ। শুধু এই ঘটনা নয় এমনকি শুধুমাত্র দিলীপবাবুর ক্ষেত্রেই নয় প্রতি রাতে এভাবেই নিরুপায় হয়ে অন্ধকার শহরে ছোটাছুটি করেন অনেক পরিবার তা জানা গেছে হাসপাতাল সূত্রেই।
আরও পড়ুন: ‘৯ ফেব্রুয়ারি আমাদের মেয়ের জন্মদিন’,সকলকে পথে নামার আর্জি অভয়ার মা-বাবার
সারা ভারতবর্ষ ব্যাপী ওষুধ বিক্রিতাদের সংগঠন BCDA রয়েছে শান্তিপুরেও। নিজেদের মধ্যে আলোচনা ভিত্তিক পালা করে একটি করে হাসপাতাল সংলগ্ন দোকান খোলা রেখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পরিষেবা তারা দিতেন আগে। অনলাইনে বিক্রির রমরমা এবং তাদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার অভিমানে মধ্যকালীন নিরাপত্তা ও সামান্য বিক্রি র অজুহাত দেখিয়ে এ ন্যায্যমূল্য ওষুধের দোকানের ওপর দায় সেরে অন্যান্য দোকানের মতই রাত দশটায় বন্ধ করে থাকেন তারা। তবে দিলীপ বাবু অবশ্য হাল ছাড়েননি,বিষয়টি পুরসভার চেয়ারম্যান, স্থানীয় বিধায়ক শান্তিপুর থানা এবং স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ ওষুধের দোকানদারদের সংগঠনকেও জানিয়েছেন তিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে ফের তৎপর হয়েছেন শান্তিপুর পুরসভার (Santipur Municipality) চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ এবং বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী তারা জানিয়েছেন এর আগে আলোচনা ভিত্তিক এভাবেই হাসপাতাল সংলগ্ন ওষুধ এর দোকান কবে কে খোলা রাখবে তার একটি তালিকা প্রকাশ হয়েছিল, তবে তা কবে বন্ধ হয়েছে তা তাদের জানা নেই। এজন্য এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমস্যা হলেই পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জানানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
অন্য খবর দেখুন